বিদ্যুৎ ছাড়া ফ্রিজে মাছ-মাংস কতক্ষণ ভালো থাকে?

ছবি সংগৃহীত

 

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক : গ্রীষ্মের তীব্র গরম কিংবা কালবৈশাখী ঝড়ের কারণে ইদানীং প্রায়ই লোডশেডিংয়ের মুখোমুখি হতে হয়। আর সামনেই কোরবানি ঈদ, যখন সবার ঘরেই ফ্রিজভর্তি মাংস থাকে। এমন সময়ে দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকলে গৃহিণীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়া স্বাভাবিক। সবার মনেই তখন একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খায়—বিদ্যুৎ ছাড়া ফ্রিজে মাছ-মাংস আসলে কতক্ষণ ভালো থাকে? কিংবা কতদিন কারেন্ট না এলেও এই খাবারগুলো নষ্ট হবে না?

বিশেষজ্ঞ ও ফ্রিজ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর ফ্রিজের ভেতরের খাবার কতক্ষণ ভালো থাকবে, তা নির্ভর করে ফ্রিজের ধরন এবং কিছু সতর্কতার ওপর।

লোডশেডিংয়ের সময় কতক্ষণ ভালো থাকে খাবার?

বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর ফ্রিজ কতক্ষণ ঠান্ডা থাকবে, তা মূলত নির্ভর করে আপনি ফ্রিজের দরজা খুলছেন কি না তার ওপর।

সাধারণ ফ্রিজ বা নরমাল অংশ (Refrigerator): বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর সাধারণ ফ্রিজের ভেতরের খাবার সাধারণত ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত পুরোপুরি নিরাপদ এবং ভালো থাকে।

ডিপ ফ্রিজ বা ফ্রিজার (Freezer): ডিপ ফ্রিজের ক্ষেত্রে সময়টা অনেক বেশি। বিদ্যুৎ ছাড়া একটি বন্ধ ডিপ ফ্রিজে খাবার ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা (১ থেকে ২ দিন) পর্যন্ত ভালো ও বরফাবৃত থাকতে পারে।

যদি ডিপ ফ্রিজটি পুরোপুরি খাবারে ঠাসা বা ভর্তি থাকে, তবে সেটি ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত তাপমাত্রা ধরে রাখতে পারে। আর যদি ফ্রিজটি অর্ধেক খালি থাকে, তবে তা প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ভেতরের খাবারকে জমিয়ে রাখতে সক্ষম।

কতদিন কারেন্ট না এলেও মাছ-মাংস নষ্ট হবে না?

যদি কোনো বড় ধরনের দুর্যোগ বা যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে ১ থেকে ২ দিন (২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা) কারেন্ট না আসে, তাহলেও ডিপ ফ্রিজের মাছ-মাংস নিরাপদ রাখা সম্ভব। তবে শর্ত হলো, এই সময়ের মধ্যে ফ্রিজের দরজা বা ঢাকনা কোনোভাবেই খোলা যাবে না।

ডিপ ফ্রিজের দরজা একদম বন্ধ থাকলে ভেতরের ঠান্ডা বাতাস বাইরে বের হতে পারে না এবং বাইরের গরম বাতাস ভেতরে ঢুকতে পারে না। ফলে ভেতরের মাংসের যে ‘আইস ব্লক’ বা বরফ ভাব থাকে, তা গলতে দীর্ঘ সময় নেয়। তবে বিদ্যুৎ যদি ২ দিনের বেশি বা ৩-৪ দিন না থাকে, তবে মাংসের বরফ পুরোপুরি গলে গিয়ে তাতে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ শুরু হতে পারে।

লোডশেডিংয়ে ফ্রিজের খাবার ভালো রাখার কিছু জরুরি কৌশল

দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে ফ্রিজের মাছ-মাংস সুরক্ষিত রাখতে নিচের নিয়মগুলো মেনে চলতে পারেন-

১. দরজা খোলা থেকে বিরত থাকুন: বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সাথে সাথে ফ্রিজ বা ডিপ ফ্রিজের দরজা খোলা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিন। খুব বেশি প্রয়োজন না হলে ঢাকনা একদমই স্পর্শ করবেন না।

২. বরফ জমিয়ে রাখুন: যেসব এলাকায় লোডশেডিং বেশি হয়, সেখানে আগে থেকেই ডিপ ফ্রিজে ছোট ছোট বাটিতে বা পলিথিনে পানি দিয়ে বরফ তৈরি করে রাখুন। কারেন্ট চলে গেলে এই বরফগুলো সাধারণ ফ্রিজের অংশে বা মাংসের চারপাশে দিয়ে রাখলে দীর্ঘক্ষণ ঠান্ডা বজায় থাকে।

৩. খাবার একসাথে ঠাসাঠাসি করে রাখুন: ডিপ ফ্রিজে মাছ বা মাংস আলাদা আলাদা দূরে না রেখে একসাথে গাদাগাদি করে রাখলে তা দীর্ঘ সময় বরফ ধরে রাখতে সাহায্য করে।

৪. থার্মোমিটার ব্যবহার করতে পারেন: ফ্রিজের ভেতরে একটি অ্যাপ্লায়েন্স থার্মোমিটার রাখতে পারেন। কারেন্ট আসার পর যদি দেখেন ডিপ ফ্রিজের তাপমাত্রা তখনও ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার নিচে আছে, তবে বুঝবেন মাংস পুরোপুরি নিরাপদ আছে।

তাই দীর্ঘ লোডশেডিংয়েও আতঙ্কিত না হয়ে ফ্রিজের দরজা শক্তভাবে বন্ধ রাখুন। ১ থেকে ২ দিন পর্যন্ত আপনার ফ্রিজের মাছ-মাংস অনায়াসেই ভালো থাকবে। সূএ :ঢাকা মেইল ডটকম

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» ৩০ জুলাই সারাদেশে সিএনজি স্টেশন বন্ধের ঘোষণা

» এদেশে শেখ পরিবার আর নেতৃত্ব দিতে পারবে না : হাসনাত আব্দুল্লাহ

» জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক রূপান্তরের প্রধান কারিগর যাদু মিয়া : তথ্যমন্ত্রী

» ছাগলকাণ্ডে আলোচিত মতিউরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন বিষয়ে আদেশ ৩ আগস্ট

» স্কুলমুখী করতে সাড়ে তিন লাখ শিশুকে স্কুল ড্রেস দেবে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী

» মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এই প্রজন্ম হারিয়ে ফেললে জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

» মাঠ পর্যায়েই হবে জন্মতারিখ সংশোধন, সহজ হচ্ছে প্রবাসী নিবন্ধন

» রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিদায়ী নৌপ্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

» সদ্য লঞ্চ হওয়া গ্যালাক্সি এ৩৭ ৫জি’র দাম কমালো স্যামসাং

» ‘ইকোফিল’ উদ্যোগ চালু করল এনার্জিপ্যাক

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

বিদ্যুৎ ছাড়া ফ্রিজে মাছ-মাংস কতক্ষণ ভালো থাকে?

ছবি সংগৃহীত

 

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক : গ্রীষ্মের তীব্র গরম কিংবা কালবৈশাখী ঝড়ের কারণে ইদানীং প্রায়ই লোডশেডিংয়ের মুখোমুখি হতে হয়। আর সামনেই কোরবানি ঈদ, যখন সবার ঘরেই ফ্রিজভর্তি মাংস থাকে। এমন সময়ে দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকলে গৃহিণীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়া স্বাভাবিক। সবার মনেই তখন একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খায়—বিদ্যুৎ ছাড়া ফ্রিজে মাছ-মাংস আসলে কতক্ষণ ভালো থাকে? কিংবা কতদিন কারেন্ট না এলেও এই খাবারগুলো নষ্ট হবে না?

বিশেষজ্ঞ ও ফ্রিজ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর ফ্রিজের ভেতরের খাবার কতক্ষণ ভালো থাকবে, তা নির্ভর করে ফ্রিজের ধরন এবং কিছু সতর্কতার ওপর।

লোডশেডিংয়ের সময় কতক্ষণ ভালো থাকে খাবার?

বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর ফ্রিজ কতক্ষণ ঠান্ডা থাকবে, তা মূলত নির্ভর করে আপনি ফ্রিজের দরজা খুলছেন কি না তার ওপর।

সাধারণ ফ্রিজ বা নরমাল অংশ (Refrigerator): বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর সাধারণ ফ্রিজের ভেতরের খাবার সাধারণত ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত পুরোপুরি নিরাপদ এবং ভালো থাকে।

ডিপ ফ্রিজ বা ফ্রিজার (Freezer): ডিপ ফ্রিজের ক্ষেত্রে সময়টা অনেক বেশি। বিদ্যুৎ ছাড়া একটি বন্ধ ডিপ ফ্রিজে খাবার ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা (১ থেকে ২ দিন) পর্যন্ত ভালো ও বরফাবৃত থাকতে পারে।

যদি ডিপ ফ্রিজটি পুরোপুরি খাবারে ঠাসা বা ভর্তি থাকে, তবে সেটি ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত তাপমাত্রা ধরে রাখতে পারে। আর যদি ফ্রিজটি অর্ধেক খালি থাকে, তবে তা প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ভেতরের খাবারকে জমিয়ে রাখতে সক্ষম।

কতদিন কারেন্ট না এলেও মাছ-মাংস নষ্ট হবে না?

যদি কোনো বড় ধরনের দুর্যোগ বা যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে ১ থেকে ২ দিন (২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা) কারেন্ট না আসে, তাহলেও ডিপ ফ্রিজের মাছ-মাংস নিরাপদ রাখা সম্ভব। তবে শর্ত হলো, এই সময়ের মধ্যে ফ্রিজের দরজা বা ঢাকনা কোনোভাবেই খোলা যাবে না।

ডিপ ফ্রিজের দরজা একদম বন্ধ থাকলে ভেতরের ঠান্ডা বাতাস বাইরে বের হতে পারে না এবং বাইরের গরম বাতাস ভেতরে ঢুকতে পারে না। ফলে ভেতরের মাংসের যে ‘আইস ব্লক’ বা বরফ ভাব থাকে, তা গলতে দীর্ঘ সময় নেয়। তবে বিদ্যুৎ যদি ২ দিনের বেশি বা ৩-৪ দিন না থাকে, তবে মাংসের বরফ পুরোপুরি গলে গিয়ে তাতে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ শুরু হতে পারে।

লোডশেডিংয়ে ফ্রিজের খাবার ভালো রাখার কিছু জরুরি কৌশল

দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে ফ্রিজের মাছ-মাংস সুরক্ষিত রাখতে নিচের নিয়মগুলো মেনে চলতে পারেন-

১. দরজা খোলা থেকে বিরত থাকুন: বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সাথে সাথে ফ্রিজ বা ডিপ ফ্রিজের দরজা খোলা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিন। খুব বেশি প্রয়োজন না হলে ঢাকনা একদমই স্পর্শ করবেন না।

২. বরফ জমিয়ে রাখুন: যেসব এলাকায় লোডশেডিং বেশি হয়, সেখানে আগে থেকেই ডিপ ফ্রিজে ছোট ছোট বাটিতে বা পলিথিনে পানি দিয়ে বরফ তৈরি করে রাখুন। কারেন্ট চলে গেলে এই বরফগুলো সাধারণ ফ্রিজের অংশে বা মাংসের চারপাশে দিয়ে রাখলে দীর্ঘক্ষণ ঠান্ডা বজায় থাকে।

৩. খাবার একসাথে ঠাসাঠাসি করে রাখুন: ডিপ ফ্রিজে মাছ বা মাংস আলাদা আলাদা দূরে না রেখে একসাথে গাদাগাদি করে রাখলে তা দীর্ঘ সময় বরফ ধরে রাখতে সাহায্য করে।

৪. থার্মোমিটার ব্যবহার করতে পারেন: ফ্রিজের ভেতরে একটি অ্যাপ্লায়েন্স থার্মোমিটার রাখতে পারেন। কারেন্ট আসার পর যদি দেখেন ডিপ ফ্রিজের তাপমাত্রা তখনও ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার নিচে আছে, তবে বুঝবেন মাংস পুরোপুরি নিরাপদ আছে।

তাই দীর্ঘ লোডশেডিংয়েও আতঙ্কিত না হয়ে ফ্রিজের দরজা শক্তভাবে বন্ধ রাখুন। ১ থেকে ২ দিন পর্যন্ত আপনার ফ্রিজের মাছ-মাংস অনায়াসেই ভালো থাকবে। সূএ :ঢাকা মেইল ডটকম

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com